উপক্রমণিকা: ‘মাতৃভাষা, বাংলা ভাষা খোদার সেরা দান। এই ভাষাতে কথা বলে জুড়ায় মনপ্রাণ।’
বাংলা
আমাদের মাতৃভাষা। এই মায়ের ভাষাকে রক্ষা করতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বুকের তাজা
রক্ত ঢেলে দিয়েছে এ জাতি। তাইতো ২১ ফেব্রুয়ারি এ জাতির চেতনার দিন, নবজাগরণের
দিন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে ঘটেছিল বাঙালির ইতিহাস পাল্টে
দেয়ার ঘটনা। জাতির দিনবদলের পালা শুরু হয়েছিল যেদিন, বাঙালির
মননে অনন্য মহিমায় ভাস্বর চিরস্মরণীয় সেই দিন একুশে ফেব্রুয়ারি। ইতিহাসের পাতায়
রক্ত পলাশ হয়ে ফোটা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, সফিউর,
আউয়াল, অহিউল্লাহর রক্তে রাঙানো একুশে
ফেব্রুয়ারি আজ। একুশে বাঙালির চেতনার প্রতীক। একুশ
আমার অহংকার। একুশে শহীদদের ঠাঁই এখন প্রতিটি বাঙালির মর্মমূলে। পরম শ্রদ্ধা আর
ভালোবাসায় উচ্চারিত হয় একেকটি নাম। মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে সারাদেশে, অগণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে
যেখানে রয়েছে বাঙালি, সেখানেই গড়ে উঠেছে অহংকারের প্রতীক
শহীদ মিনার।
ভাষা
আন্দোলন থেকে মাতৃভাষা দিবস:
১৭৭৮ সালে বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে প্রথম মত পোষণ করেন একজন ব্রিটিশ লেখক। তার নাম
ন্যাথিনিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড। ১৯১৮ সালে ভারতের ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতনে কবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ভারতের সাধারণ ভাষা কী হওয়া উচিত তা নিয়ে একটি
আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রবিঠাকুর ভারতের সাধারণ ভাষা হিসেবে হিন্দির পক্ষে
মত পোষণ করেন। এ প্রস্তাবের সরাসরি বিরোধিতা করেন ওই সভায় অংশগ্রহণকারী ড. মুহম্মদ
শহীদুল্লহ । তিনি তার বক্তব্যে বাংলাকে ভারতের সাধারণ ভাষা করার প্রস্তাব পেশ
করেন। ওই সময়ে হিন্দি- প্রেমিকরা হিন্দিভাষাকে সমর্থন করে গান্ধীজীর বরাবরে একটি
পত্র লেখেন তা হলো- “the only possible national language for intercourse is Hindi in
India” ।
১৯২১ সালে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী লিখিত আকারে ব্রিটিশ
সরকারের কাছে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রস্তাব পেশ করেন। ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয়
প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সম্পাদক আবুল হাশিম প্রাদেশিক কাউন্সিলের কাছে পেশকৃত খসড়া
ম্যানিফেস্টোতে বাংলাকে পূর্ব বাংলার রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেন। ১৯৪৭ সালের
৩০ জুন দৈনিক আজাদ পত্রিকায় পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা প্রবন্ধে আব্দুল হক বাংলাকে
রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অভিমত প্রকাশ করেন। ১৯৪৮ সাল নবগঠিত পাকিস্তান গণপরিষদের
প্রথম বৈঠক বসে করাচিতে। বৈঠকের শুরুতেই উর্দু ও ইংরেজিকে গণপরিষদের সরকারি ভাষা
বলে ঘোষণা করা হয়।
পূর্ব বাংলার বিরূপ প্রতিক্রিয়া গণপরিষদ সদস্য বাবু ধীরেন্দ্রনাথ
দত্ত (কুমিল্লা) সভায় একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তাতে তিনি উর্দু-ইংরেজির
সাথে বাংলাকেও গণপরিষদের সরকারি ভাষা ঘোষণার দাবি জানান। পূর্ব বাংলার সব মুসলিম
সদস্য ও পশ্চিম পাকিস্তানের সদস্যরা এক জোটে এই প্রস্তাব নাকচ করে দেন।
পূর্ববাংলায় এর বিরুপ প্রতিক্রিয়া হয়।‘‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’’ দাবিতে
ছাত্রসমাজের বৈপ্ললবিক পদক্ষেপে ঢাকার রাজপথ সরগরম হয়ে ওঠে।
ভাষা-বিক্ষোভ ও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ বঙ্গীয় সমাজে বাংলাভাষার অবস্থান
নিয়ে বাঙালি মুসলমানদের আত্ম-অন্বেষায় যে ভাষা চেতনার উন্মেষ ঘটে, তারই সূত্র ধরে বিভাগোত্তর পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের
নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে
আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি যার চরম প্রকাশ ঘটে। এইদিন সকালে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর
গুলি চালায়। এতে বরকত, জব্বার, আবদুস
সালাম, রফিক সহ ছয়জন ছাত্র-যুবক হতাহত হন।
রাজপথে প্রতিবাদী মিছিল এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী ঢাকা
মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সমবেত হন। নানা-নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি
সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জমাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। এদিন
নবাবপুর, রণখোলা ও ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় পুলিশ মিছিলে
গুলিবর্ষণ করে। এ দিনে শহীদ হন শফিউর রহমান, আব্দুল আউয়াল
ও অহিদুল্লাহ সহ একাধিক ব্যক্তি।
শহীদ মিনার স্থাপন ও ভাঙ্গন ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখের
রাতে ছাত্রজনতার এক বৈঠকে নেতৃবৃন্দ শহীদদের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য একটি শহীদ
মিনার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই রাতের অন্ধকারেই গুলিবর্ষণের স্থানে নিজেদের
নকশা অনুযায়ী ইট দিয়ে নির্মিত হয় শহীদ মিনার। কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে পুলিশ এ শহীদ মিনার ভেঙ্গে দেয়। সে জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি
১৯৫৩ তারিখে প্রথম শহীদ দিবস পালনের জন্য কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।
পরের দুই বছরও ঐ স্থানে কালো কাপড় দিয়ে ঘিরে শহীদ মিনারের অভাব পূরণ করা হয়।
আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারির স্বীকৃতি:
একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতি পাওয়ার
পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সাধনা, সংগ্রামের ইতিহাস। কানাডা
প্রবাসী বাঙালি রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালামের প্রতিষ্ঠিত “The mother
language lover of the world” সংগঠন ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ
জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
ঘোষণার প্রস্তাব করে একটি চিঠি পাঠান। এ চিঠিতে সাত জাতি ও সাত ভাষার দশজন
স্বাক্ষর করেন। এর এক বছর পর, ইউনেস্কো সদর দফতরের ভাষা
বিভাগের আন্না মারিয়া রফিকুল ইসলামকে ১৯৯৯ সালের ৩ মার্চ সম্মতিসূচক চিঠি লেখেন,
Regarding your request to declare the 21 February as International Mother
Language day. The idea is indeed very interesting.nঅবশেষে Bangladesh
National Commission -র পক্ষে সচিব কফিল উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবে
স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ও তৎকালীন
প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে প্রস্তাবটি ইউনেস্কো সদর দফতরে পেশ করেন। ইউনেস্কোর ২৮
টি সদস্যরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রস্তাব লিখিতভাবে সমর্থন করে। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন
আর বাংলাভাষাভাষী মানুষের কাছে শোকার্ত দিন নয়। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন গোটাবিশ্বের
মাতৃভাষা দিবস। রক্তের আলপনা এঁকে যে ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে আমাদের বাঙালি
সন্তানরা, রাজকীয় ভাষা হিসেবে। তাঁদের আন্দোলনের সূত্র
ধরেই একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তারাই আমাদের গর্বিত ধন,
তারাই আমাদের মাতৃভাষার প্রতিষ্ঠাতা।
শহীদ
দিবস থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:
২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস। অমর একুশে। একুশের রক্তস্নাত পথ বেয়ে
এদিনটি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর
প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা
হয় এবং ২০০০ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসঙ্ঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ
মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। UNESCO- র ঘোষণায় বলা হয়- 21
February is proclaimed international mother language day throughout the world
to commemorate the martyrs who sacrificed their lives on this day in 1952.
বর্তমান বিশ্বের ১৮৮ দেশে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে যথার্থ গুরুত্ব
সহকারে। উল্লেখিত দেশগুলোর জনসাধারণের কাছে বাংলাভাষা আজ সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে
আসীন। এ এক অনন্য অর্জন। এ অর্জন আমাদের সর্বক্ষেত্রে গর্বের, গৌরবের ও অহংকারের। সারা বিশ্বের মানুষ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পালনের
মাধ্যমে মৃত্যুঞ্জয়ী ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানায় এবং সমগ্র চেতনায় লালনকারে কালজয়ী
ভাষা বাংলাকে।
আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস আমাদের প্রাণের উচ্চারণ:
মাতৃভাষা মানুষের জন্মগত অধিকার। এ অধিকার মানুষ লাভ করে স্বয়ং
স্রষ্টা থেকে। যে মাটির কোলে যে মানুষ জন্মগ্রহণ করে যে মাটির ভাষা তার অস্তিত্বের
সাথে জড়িয়ে থাকে। তার চোখ, মুখ, বুকের
সাথে লেগে থাকে সে ভাষার গভীর আবরণ। তার স্বপ্ন সাধনা, আশা-আকাক্সক্ষা
তৃপ্তি ও সম্ভাবনার সমস্ত আকাশ জুড়ে উড়তে থাকে মাতৃভাষার প্রাণময় নীল ঘড়ি। যে
মাটির রসসিক্ত জলবায়ুর জৌলুসে বেড়ে ওঠে মানুষের শরীর সে মাটির ভাষা উপেক্ষা করার
শক্তিই বা কার থাকে। কারো থাকে না। থাকে না বলেই যে মানুষ যে ভূগোলে নিরস্তিত্ব
থেকে অস্তিত্ব পায় সে ভূগোলের ভাষা তার জিহ্বায় জড়িয়ে পড়ে। সে ভাষার স্বাদ,
গন্ধ, স্পর্শ অনুভবের ভিতর ডানা ঝাপটায়।
বুকের গভীরে ডালপালা মেলে। শতদল ফুটে যায় ভাষার সৌরভে।
একুশে
ফেব্রুয়ারি – আমাদের শিক্ষণীয়:
কিছু প্রতিবাদ শিখা অনির্বাণের মতো, কিছু
ঘটনা চেতনার আলো ছড়ায় সারা বিশ্বে , সে চেতনার দৃপ্ত শপথে
সত্ত্বা জুড়ে আছ তোমরা, শুধু তোমরাই মোদের গরব। সময়ের
সিঁড়ি বেয়ে বিদ্রোহের বিবর্তন ধারায় মশালটির মাতা বরকত, সালাম,
রফিক, জব্বার, শফিকসহ
বহু পৌরুষ- প্রোজ্জ্বল তাজা প্রাণ তরুণের-আত্মদান আজকালের এচক্রনেমি ঘোরাতে ঘোরাতে
কাল থেকে কালান্তরের মধ্যে পরিব্যাপ্ত হয়েছে। এ পরিব্যাপ্তি যেন মানবসভ্যতার
ইতিহাসের আগ্রেয় অধ্যায়ের পরিব্যাপ্তি। একুশ থেকে আমরা পাই গণতন্ত্রের চেতনা,
পাই সাম্যের চেতনা। একুশ আমাদের শিখিয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠার অধিকার
প্রতিষ্ঠায় লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে। একুশের চেতনা যেমন সমানাধিকারের চেতনা তেমনি
একুশের চেতনা মানে অসাম্প্রদায়িকতার মহান চেতনা ।
একুশে
ফেব্রুয়ারি – আমাদের করণীয়
গৌরব অক্ষুণ্ন রাখা সালাম, রফিক,
জব্বার, শফিউর, অহিদুল্লাহ প্রমুখ আজ দেশে কাল থেকে কালে, শতাব্দী
থেকে শতাব্দী অমর হয়ে থাকবেন। তারা আমাদের যে গৌরবে অভিষিক্ত কবে গেলেন-তাকে ধরে
রাখা আজ আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমাদের মায়ের ভাষাকে নিয়ে যেতে হবে ভাষার
আন্তর্জাতিকতায়। আমাদেরকে সততা, ঐক্য, মেধা, শ্রমের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে
শিক্ষায়-উন্নয়নকে দেশপ্রেম। আর তখনই আমরা খুঁজে পাব আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
হিসেবে আমাদের রক্তেরাঙা অমর একুশের সার্থকতা।
বাংলা বানান সংস্কার করা অমর একুশকে সামনে রেখে বাংলাভাষাকে
সংস্কার, সমৃদ্ধিও বেগবান করার জন্য বানান যাতে কোনো মতেই
প্রতিবন্ধকতা হয়ে না দাঁড়ায়। আজ আমাদের এই প্রতিভা নিতে হবে। আধুনিক বানান ভাষার
গতিময়তা বাড়িয়ে দিতে পারে। মূলধ্বনিকে সামনে রেখে বলিষ্ঠ এবং সঠিক উচ্চারণের সাথে
তাকে মিলিয়ে নেয়াই ভাষার ইতিহাসে বানান, উচ্চারণ ও লেখায়
তার সঠিক অবস্থান খুঁজে নেবে।
ঐতিহ্য থেকে প্রেরণা গ্রহণ একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আমাদের ঐতিহ্যে
পরিণত। এ ঐতিহ্য থেকে আমরা প্রেরণা গ্রহণ করবো, সঞ্চয়
করবো শক্তিও সাহস। কিন্তু আমাদের পদক্ষেপ হবে সামনের দিকে, দৃষ্টি থাকবে ভবিষ্যতের প্রাণে এবং আমরা এগিয়ে যাবো মহত্তর ত্যাগের
নবতর সংকল্প বুকে নিয়ে। এভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় সংযোজিত হবে আরো নতুন
নতুন স্মরণীয় তারিখ। তা হলেই একুশে ফেব্রুয়ারি পালন হবে সার্থক।
যবণিকা:
বাংলার
স্বাধীনতার বীজ কিন্তু ৫২ এই রোপিত হয়ে গিয়েছিল।সেই বীজের ফল ৭১ এ বাঙালি পেয়েছিল।
বিনম্র শ্রদ্ধা রইল সেইসব বীর কথকদের প্রতি। যারা মায়ের ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায়
জীবনের বিনিময়ে হলেও কথা বলেনি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উনাদের উত্তম প্রতিদান দিক।
ছোট, বড়, ধনী, গরীব সবাই
বাংলা ভাষার জন্য গর্বিত। বাঙ্গালি হিসেবে গর্বিত।
আজ মহান
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এর প্রত্যয় হলো আগামীর দিনগুলোতে মাতৃভাষার উন্নয়ন ও
বিস্তারে সমাজের সর্বস্তরের লোকজন আরও কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। মাতৃভাষার প্রতি
শ্রদ্ধাবোধ বাড়াবে যেন বাংলা ভাষা ও তার সাহিত্য এবং সংস্কৃতি একুশের চেতনার মধ্য
দিয়ে বিকশিত হতে থাকে। আজও যেমনি তা অব্যাহত রয়েছে নব নব রূপে। ভবিষ্যতে ও যেন এর
সাফল্যগাঁথা অব্যাহত থাকে।
২১
ফেব্রুয়ারি আমাদের অহংকার। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক। শেষ করতে চাই আবদুল
গাফফার চৌধুরীর ঐতিহাসিক একুশের গানের কথার সাথে -
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি