বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বর্তমান বাংলাদেশ - Life style of Mithila

Last Writings

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বর্তমান বাংলাদেশ


 ভূমিকা: জাতির পিতার স্বপ্নই আমাদের বাংলাদেশ। আইনের শাসন এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরে এলে দেশ এগিয়ে যাবে। এই বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা চলছিল। বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শনই ছিল বাঙালির মুক্তি, মানুষের মুক্তি। তিনি যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন ৭ মার্চ ১৯৭১-এ, ওই ভাষণে তিনি শেষে এসে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই বক্তব্যই ছিল আমাদের প্রেরণা। আসলে এটি ভাষণ নয়, এটি ছিল সেদিন মানুষের সঙ্গে কথোপকথন। ১০ লাখ বাঙালির যে জনসমুদ্র সেদিন হয়েছিল, তা বিস্ময়কর। তিনি সেই জনগণের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ভাষণের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে এসেছি। তিনি আরও বলেছিলেন, বাঙালি মুক্তি চায়। 

 

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন: স্বাধীনতার পর দেশে সমস্যার কোনো অন্ত ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে ছিল না অবকাঠামো ব্যবস্থা। অর্থনীতির অবস্থাও ছিল করুণ। এ অবস্থা থেকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও দৃঢ় পরিচালনায় দেশ একটি সুন্দর গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। জাতির জনকের দূরদর্শিতায় ১৯৭৪-এর প্রায় দুর্ভিক্ষ অবস্থা মোকাবেলাও আমরা করেছি, কিন্তু মানুষের ভেতর উদ্দীপনা ছিল, সহনশীলতা ছিল, শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ছিল এবং অসাম্প্রদায়িক একটা চেতনাও ছিল। কিন্তু তার হত্যা সেখান থেকে একটা বড় বিচ্যুতি ঘটিয়েছিল। দেশে চেপে বসেছিল স্বৈরশাসন। জাতির টুঁটি চেপে ধরেছিল সাম্প্রদায়িকতা। স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতা দখল করে পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশকে ফিরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। কিন্তু ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর দেশে জেঁকে বসে পুঁজিবাদের শাসন, বাড়তে থাকে মানুষে মানুষে বিচ্ছিন্নতা এবং সমাজে বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে। এরপর দশটি বছরও পার হয়নি, আমরা গণতন্ত্র হারিয়েছি। সমাজতন্ত্রের আদর্শ হয় ভূলুণ্ঠিত। সমাজে বিত্তশালী ও ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে আর প্রভাব-প্রতিপত্তি হয় দীর্ঘস্থায়ী। বাংলাদেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর অনেক স্বপ্ন ছিল। তার কিছু কিছু বাস্তবায়ন স্বাধীনতার পর থেকেই শুরু হয়েছে। কিন্তু সেগুলো অধরাই রয়ে গেছে। দেশের ভেতরে নানা অপশক্তির তৎপরতা, নৈতিকতা-মূল্যবোধ-সততা ও আদর্শহীন কিছু মানুষের ক্ষমতা এবং বিত্তের প্রতি লোভ থমকে দেয় বাঙালির মর্যাদাশীল জাতি হওয়ার স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগেও ধরা দেয় ভাঙন। ক্ষমতালিপ্সুরা দল ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তির সঙ্গে যোগ দেয়। কেউ কেউ জেল-জুলুমের শিকার হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। গুটিকয়েক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রামে লিপ্ত হন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশটি আত্মনির্ভরশীল হবে মানুষ দু’বেলা আহার পাবে, মাথার ওপর চাল থাকবে, শিক্ষিত হবে, সব মানুষের কর্মসংস্থান ও সুস্বাস্থ্য থাকবে এবং সমাজে সংহতি থাকবে। অনেক দেরিতে হলেও দেশটি সেদিকে যাত্রা করছে।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রথম বাধা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করেছেন বলেই আজ বাংলাদেশের নতুন যাত্রা, নতুন অবস্থান সৃষ্টি, নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সারা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হচ্ছি আমরা। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ-তিতিক্ষা, কারাগারে অন্তরীণ থাকা, ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা, বেকার হোস্টেল থেকে যাত্রা শুরু করে বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি ফেরত আসা হিসাব করলে তিনি শেখ মুজিব; শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির জনক, রাষ্ট্রনায়ক। বঙ্গবন্ধু যদি ধারাবাহিকভাবে দেশ রক্ষা করতে পারতেন, পঁচাত্তরে যদি নিষ্ঠুর অধ্যায় তৈরি না হতো, হয়তো অনেক আগেই দেশকে সুখী, সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে দেখতে পেতাম, যা তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের যাত্রাটুকু তাঁর মেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন জায়গা তৈরি করলেন সারা পৃথিবীর বুকে। 

 

বঙ্গবন্ধু কন্যার অগ্রযাত্রা: বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পুনরায় বিনির্মাণের কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এ দেশের আপামর মানুষ সেই স্বপ্নের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দেশের উন্নতিকল্পে কাজ শুরু করেন।

এমন এক সময় গেছে যখন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করা যেত না। তার হত্যার বিচার চাওয়ার সুযোগ ছিল না। তার যে ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ তা বাজাতে দেয়া হতো না। কিন্তু দেশে আবার ফিরে এসেছে মুজিববাদ, মুজিবচর্চা। ’৯৬ সালে সরকারে এসে মাঝখানে পাঁচ বছর বিরতি দিয়ে ২০০৯ থেকে টানা দশ বছর সরকার পরিচালনা করে এগারো বছর পার করতে চলেছেন শেখ হাসিনা। এ দেশের মানুষও তার নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধুর ‘ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত-উন্নত-সমৃদ্ধ’ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণে কাজ করছে। দেশ ইতিমধ্যে পরিণত হয়েছে ‘নিম্নমধ্যম’ আয়ের দেশে। বঙ্গবন্ধুর বড় কন্যা শেখ হাসিনা ২০২১ সালে মধ্যম এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ঘোষণায় শামিল হয়ে চলছে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ। জনগণের ওপর রাষ্ট্রের নিপীড়নকে ঘৃণা করতেন বঙ্গবন্ধু। বিনা বিচারে মানুষকে অন্তরীণ রাখাকে তিনি অপরাধ হিসেবে গণ্য করতেন। দুঃখী মানুষের জন্য তার সমবেদনা ছিল এবং যারা ক্ষমতাকে ব্যবহার করে দুর্বলের ওপর অত্যাচার করে তাদের প্রতি তিনি ক্ষমাহীন ছিলেন।

বর্তমান বাংলাদেশ: আজকের বাংলাদেশের দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে দেখতে পাই, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষ সমান তালে অংশগ্রহণ করছে। বর্তমানে প্রশাসনের শীর্ষপদ সচিব ও সমপর্যায়ের দায়িত্বে রয়েছেন ১০ নারী। একটি বিভাগীয় কমিশনার, ৬টি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও ২০টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (এডিসি) পদ দখলে রেখেছেন তারা। পাশাপাশি দেশের ১১৩টি উপজেলায় দাপটের সঙ্গে প্রশাসন পরিচালনা করছেন নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টে আছেন ৭ জন নারী বিচারপতি। নিম্ন আদালতে রয়েছেন ৫৩৮ জন নারী বিচারক। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত মোট নারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ১৭৭ জন। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে অর্থাৎ প্রথম শ্রেণির নারী কর্মকর্তা রয়েছেন ২৭৪ জন। রাজনীতি কিংবা অর্থনীতি, শিক্ষা কিংবা চিকিৎসা, প্রতিরক্ষা কিংবা দেশের জন্য পরিকল্পনা প্রতিটি ক্ষেত্রেই অংশ নিচ্ছে নারীরা। দেশের এই চিত্রই বলে দেয় যে, ষড়যন্ত্রকারীদের বাংলার মানুষ ঘৃণার আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। আর জাতির পিতার স্বপ্নেরই বাস্তবায়ন ঘটেছে।

 

আজকের বাংলাদেশের এগিয়ে চলা: বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, প্রতিনিয়ত তার দেখানো পথকে ব্যবহার করে, তারই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে এদেশের গণমানুষের মুখে হাসি ফোটানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টার সংগ্রাম পরিলক্ষিত হচ্ছে। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, এই তিন সূচকের মানদণ্ডে আজকের বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অবস্থান করছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এর মাথাপিছু আয় ২০৭৯ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগোচ্ছে। ৫০ বছর আগেও যে বাংলাদেশের অস্তিত্বই ছিল না সেই বাংলাদেশ এখন একটি স্যাটেলাইটের মালিক। এছাড়া আরো কয়েকটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণসহ মঙ্গল অভিযানের স্বপ্নও দেখে এদেশ। এক সময় যে বাংলাদেশকে কেউ চিনতই না সেই বাংলাদেশ, পোশাক শিল্প, ওষুধ শিল্প, চামড়া শিল্প ও কৃষিসহ বিভিন্ন রপ্তানিপণ্য, জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণীদের বিশ্বব্যাপী পদচারণা, ক্রিকেট, অন্যান্য খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন শিল্প-সংস্কৃতির জন্য পুরো পৃথিবীতে আজ বাংলাদেশের সুপরিচিতি রয়েছে। ছোট্ট ও জনবহুল একটি দেশ হয়েও প্রাকৃতিক দুর্যোগের দক্ষ ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্যদূরীকরণ, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক সফলতায় এক দৃষ্টান্তের নাম বাংলাদেশ। শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্য খাত, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটালাইজেশন, কৃষি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, প্রবাসী শ্রমিক উন্নয়ন, বিদ্যুৎ শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, দক্ষভ‚মি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি উদাহরণ।

বাংলাদেশের উন্নয়নধারা: জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসাধ্য সাধন করে চলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিস্ময়কর অগ্রগতি আজ বাংলাদেশের। পার্বত্য চট্টগ্রাম যখন অশান্ত তখন শান্তি স্থাপন করেছেন। তিনি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি করেছেন। সমুদ্রসীমা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সালিশী আদালতে লড়াই করে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের অধিক সমুদ্রসীমা, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি করেছেন। গড়ে সাড়ে ছয় শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বহাল রেখে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে আসীন করেছেন। একদা বাংলাদেশের গোলা ঘরে চাল ছিল না, ব্যাংকে টাকা ছিল না, বৈদেশিক মুদ্রা ছিল না, শূন্য হাতে যাত্রা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই বাংলাদেশ আজ পাকিস্তান থেকে সামাজিক-অর্থনৈতিক সকল খাতে এগিয়ে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হতে চলেছে। বাংলার দুখি মানুষের মুখে আজ হাসি। স্বাধীন বাংলাদেশ আজ জাতির জনকের চেতনায় প্রগতির পথে ধাবমান। কোনও  ষড়যন্ত্রই এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতিকে রোধ করতে পারবে না।

 

ডিজিটাল বাংলাদেশ: জাতির পিতার নামে দেশের প্রথম স্যাটেলাইটের নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু -১। দেশের ইন্টারনেট সেবা, ডাইরেক্ট-টু-হোম (ডিটিএইচ) ডিশ সেবাসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবদান রাখবে দেশের প্রথম এই স্যাটেলাইট।  বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে আমাদেরকে বছরে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বাঁচানো সম্ভব হবে বঙ্গবন্ধু -১ এর মাধ্যমে। এছাড়া অব্যবহৃত ট্রান্সপন্ডার আশেপাশের দেশগুলোকে ভাড়া দিয়ে বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার অর্জন করা সম্ভব। সেই সঙ্গে বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসাবে পারমাণবিক শক্তিসম্পন্নদেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। রূপপুর পারমাণবিক চুল্লি থেকে ২০২৪ সালের মাঝে জাতীয় গ্রিডে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করা সম্ভব হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই স্যাটেলাইট এবং পারমাণবিক চুল্লি থেকে অর্থনৈতিক উপকার যতটা পাওয়া যাবে, তার থেকে বেশি অর্জন করা গিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্মান ও স্বীকৃতি। এই অর্জনগুলো আমাদের জাতির জন্য গৌরবোজ্জ্বল মুকুট হয়ে থাকবে এবং আমাদের তরুণ সমাজকে প্রযুক্তি নির্ভর জাতি গঠনে উদ্বুদ্ধ করবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরদূরদর্শী ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মাঝে মহাকাশে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রবেশ করেছি পারমাণবিক যুগে। মাঝখানে দীর্ঘ একটি সময় আমরা এক অন্ধকার সময় পার করেছি, যার ফলে দুর্নীতিগ্রস্থ হয়েছিল দেশের বিশাল একটি অংশ। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পুনরায় দৃঢ়চিত্তের এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপান্তর ডিজিটাল বাংলাদেশ।

 

 

উপসংহার: বাঙালি জাতি-রাষ্ট্রের পিতা বঙ্গবন্ধু। তাঁকে অনেকের সঙ্গে তুলনা করার প্রয়োজন নেই। তিনি আপন মহিমায় উজ্জ্বল। প্রতিটি মানুষেরই স্বপ্ন থাকে। বঙ্গবন্ধুরও স্বপ্ন ছিল। তাঁর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলার। সোনার বাংলার রূপটাও দেখিয়েছেন। সোনার বাংলা হবে শোষণমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী উজ্জীবিত একটা দেশ। বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করার জন্য তিনি সোনার বাংলা নাম দিয়েছিলেন। তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে রাষ্ট্রপত্তন করেছেন। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে আমরা পেয়েছি জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা ও রাষ্ট্রের অবয়ব (৫৪ হাজার বর্গমাইল)। বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভিশন ছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন করা। জাতির পিতাকে হত্যার পর যে ধূসর, অন্ধকার একটা যুগ ছিল, তাকে অপসারণ করে আসতে আসতে আজকের বাংলাদেশের অবস্থান। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। আমাদের সবাইকে মিলে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। বাধা পেরিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।