প্রারম্ভিকা:
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে
আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল একটি ভূখ-ের, যার নাম বাংলাদেশ। সবুজের জমিনে রক্তিম সূর্যখচিত মানচিত্রের এ দেশটির
৪৯ বছর পূর্তি উদযাপন করছি আমরা। ৫০ বছরে পা রাখতে চলেছে প্রিয় বাংলাদেশ। ২০২১
সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে বাঙালি জাতি। বাংলাদেশের
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ ঘটেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক
ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) গত ১৫ মার্চ এলডিসি থেকে
বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে
উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়,
মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটি সূচকের যে
কোন দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকের মানদন্ডেই উন্নীত হয়েছে।
‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ - যেখানে রয়েছে এক
বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস’ সরকারের রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের এটি একটি বড়
অর্জন। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের
সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি,
কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে
বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে।
জন্ম থেকে বাংলাদেশের এগিয়ে
চলা:
স্বাধীনতার পর
‘তলাবিহীন ঝুড়ির’ দেশ আখ্যা দিয়ে যারা অপমান-অপদস্থ করেছিল, সেই তাদের কণ্ঠেই এখন বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা। দারিদ্র্য আর
দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পথে। অনেকের জন্য
রোলমডেল। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ।
বিজয়ের এই ক্ষণে সমৃদ্ধির এ ধারা ধরে রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান
জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের
মুষ্টিমেয় সহযোগী ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জয় হয়েছিল। বহু ত্যাগ-তিতীক্ষার
বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের পর সেদিন মানুষ হাঁফ ছেড়ে নিঃশ্বাস নিয়েছিল। যুদ্ধে হারিয়ে
যাওয়া প্রিয়জন-স্বজনদের জন্য কেঁদেছিল চিৎকার করে। কারণ যুদ্ধের ৯ মাস তো তাদের কান্না
করারও অধিকার ছিল না। দেশে ফিরেই সহযোদ্ধা-সহকর্মীকে নিয়ে শুরু করেন একটি বিধ্বস্ত
দেশ গড়ার কাজ। তার সেই সময় নেওয়া উদ্যোগগুলো ছিল বেশ প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। তিনি
চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে বাঁচুক। গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন সোনার বাংলা। এ
লক্ষ্যে গ্রহণ করেন নানা অসাধ্য কর্মসূচির। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে জাতির
উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকে বঙ্গবন্ধু সর্বোৎকৃষ্ট বিনিয়োগ
বলেছিলেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায় রাষ্ট্রীয়
বিভিন্ন পদক্ষেপে।
বর্তমান উন্নয়ন প্রেক্ষাপট:
বর্তমানে বাংলাদেশে
শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে যে সাফল্য, এর পেছনেও বঙ্গবন্ধুর পদক্ষেপসমূহের বড় ভূমিকা রয়েছে। এরই আলোকে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নতুন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। দেশে ১৯৭২-৭৩
অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪৭ শতাংশ, এখন তা মাত্র ৬.২
শতাংশ। এ হার আরও কমানোর জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি উভয়
সূচকের স্থিতিশীলতার বিচারেও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। এছাড়া
রপ্তানি খাতে বিশাল রূপান্তর ঘটেছে। ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল
মাত্র ৩৮৩ মিলিয়ন ডলার। মূলত পাকিস্তান আমলে গড়ে ওঠা রপ্তানি নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন
হওয়ায় স্বাধীনতার পরপর রপ্তানি কমে গিয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৮১ গুণ
বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.২ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে বেড়েছে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যাও।
স্বাধীনতার পর রপ্তানি আয়ের সত্তর ভাগ ছিল পাটের দখলে। বর্তমানে মোট রপ্তানির ৮২
শতাংশই তৈরি পোশাক খাতের দখলে। তৈরি পোশাকে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক
দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ৪০ লাখের বেশি শ্রমজীবী এ খাতের পেশায়
নিয়োজিত রয়েছে যার আশি ভাগই নারী শ্রমিক। ব্যবসা-বাণিজ্যের এ চিত্র বাংলাদেশের
অর্থনীতির সক্ষমতা নির্ণয়ে একটি অকাট্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। সেদিন
বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশে আমদানি ব্যয়ের চেয়ে
রপ্তানি আয় বেশি হবে।
বাংলাদেশের অর্জন:
বাংলাদেশের
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ ঘটেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক
ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) গত ১৫ মার্চ এলডিসি থেকে
বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে
উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ
তিনটি সূচকের যে কোন দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকের মানদন্ডেই
উন্নীত হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদন্ড অনুযায়ী
এক্ষেত্রে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তার থেকে অনেক বেশি অর্থাৎ ১৬১০ মার্কিন ডলার।
মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দমমিক ৯। অর্থনৈতিক
ভঙ্গুরতা সূচক হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ।
‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ - যেখানে রয়েছে এক
বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়ার ইতিহাস’ সরকারের রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের এটি একটি বড়
অর্জন। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের
সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি,
কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে
বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের
দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে
সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
নারী ও শিশু উন্নয়নে
অর্জন:
নারীর সার্বিক
উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে “জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা-২০১১”। নারী শিক্ষাকে
উৎসাহিত করতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি
কার্যক্রম। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে গৃহীত হয়েছে
নানামুখী পদক্ষেপ। প্রযুক্তি জগতে নারীদের প্রবেশকে সহজ করতে ইউনিয়ন ডিজিটাল
কেন্দ্রের মতো ইউনিয়ন ভিত্তিক তথ্যসেবায় উদ্যোক্তা হিসেবে একজন পুরুষের পাশাপাশি
নিয়োগ দেওয়া হয়েছে একজন নারী উদ্যোক্তাকেও। “জাতীয় শিশু নীতি-২০১১” প্রণয়নের
মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে শিশুদের সার্বিক অধিকারকে। দেশের ৪০টি জেলার সদর
হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হয়েছে ওয়ান স্টপ
ক্রাইসিস সেল। দুঃস্থ্, এতিম, অসহায়
পথ-শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র। তথ্য
প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভূষিত করা
হয়েছে জাতিসংঘের সাউথ–সাউথ এওয়ার্ডে।
গত ৫০ বছরের একটি তুলমূলক
আলোচনা:
১৯৭১
থেকে ২০২১, বাংলাদেশের এ ৫০ বছরকে নানা সূচকে অর্থনৈতিক
উন্নয়নকে বিশ্লেষণ করতে হলে সামষ্টিক ও ব্যাষ্টিক অর্থনীতির সব তথ্যের একটি
তুলনামূলক সমাবেশ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এখানে হয়তো সার্বিক বিশ্লেষণের সব তথ্য নেই।
বর্তমানে উদাহরণ হিসেবে নানা জটিল মাপকাঠি ব্যবহার না করেও শুধু চারটি তুলনামূলক
তথ্য ব্যবহার করা হলো। যথা জিডিপি, মাথাপিছু আয়, জাতীয় বাজেট ও গড়পড়তা আয়ুর একটি তুলনামূলক আলোচনা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল শুধু ৯ বিলিয়ন
মার্কিন ডলার। ২০২০ সালে তা দাঁড়ায় ২৭৫ মিলিয়ন ডলার। ৪৯
বছরে যা বৃদ্ধি প্রায় ৩০ গুণ। ১৯৭১-এ মাথাপিছু গড় আয় ছিল
১৪০ ডলার, ২০১৮-২০১৯-এ বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৯০৯ ডলার এবং ২০২১-এ তা ২০৬৪-এ উন্নীত হয়। তাহলে ১৯৭২-১৯৭৩ সালের তুলনায় ২০২১ সালে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭৫ গুণ। ১৯৭২-১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের
জাতীয় বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি, ২০১৮-২০১৯-এ ৪ লাখ ৬৪
হাজার ৫৭৩ কোটি, ২০১৯-২০২০-এ ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি এবং
২০২০-২০২১ সালের বাজেট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ১৯৭২-১৯৭৩ সালের তুলনায় বাজেটের
আকার বেড়েছে প্রায় ৭২২ গুণ। ১৯৭২-১৯৭৩ সালে উন্নয়ন বাজেটের আকার ছিল ৫০১ কোটি টাকা,
যা বেড়ে ২০১৮-২০১৯ সালে হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি, যা ৩৪৫ গুণ বেশি। এসব কিছুর প্রতিফলন দেখা যায় বিদ্যুতায়ন, গ্রামীণ সড়কের ঘনত্ব, শিল্পায়ন, গৃহায়ণ, নগরায়ণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের
প্রসার, দারিদ্র্য বিমোচন প্রভৃতি ক্ষেত্রে। সামাজিক
উন্নয়নের ক্ষেত্রেও আমাদের ৫০ বছরের অগ্রগতি স্বস্তিদায়ক। যেমন সার্বিক সাধারণ
শিক্ষা, স্বাস্থ্য তথা শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, গড় আয়ু, ইপিআই,
নারীর ক্ষমতায়ন, জন্ম ও মৃত্যুহার হ্রাস
ইত্যাদিতে অগ্রগতির উল্লেখ করা যেতে পারে।
সুবর্ণজয়ন্তী ও আমাদের প্রত্যাশা:
সুবর্ণজয়ন্তীতে
আমাদের প্রত্যাশা অনেক। প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজন যথাযথ কর্মপরিকল্পনা। ইতোমধ্যে
আমরা অনেক কিছু অর্জন করেছি। বিজয় অর্জনের পেছনে ত্যাগের যে প্রেক্ষাপট; তা আজ সবার মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমানের নেতৃত্বে স্বজন হারানো, সম্ভ্রম হারানোর শোক,
লজ্জাকে শক্তিতে পরিণত করে সামনের দিকে এগিয়ে গেছে বাঙালি জাতি।
স্বাধীনতা-পরবর্তী বিধ্বস্ত বাংলাদেশের যে করুণ চিত্র ছিল, তা আজ পরিবর্তন হয়েছে- দেশের অগ্রগতির দিকে লক্ষ করলেই তা স্পষ্ট হয়ে
যায়। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৪৭ শতাংশ; এখন তা
মাত্র ৬.২ শতাংশ। আশা করা যায়, এ হার আরও কমিয়ে আনা সম্ভব
হবে; সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে শিক্ষার দিকে
তাকালে আমরা যে অগ্রগতি ও অগ্রগতির ছোঁয়া দেখতে পাই; তার
মূল সূচনা হয়েছিল ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর দেশে প্রত্যাবর্তনের পর নেওয়া বিভিন্ন
পদক্ষেপের মাধ্যমে। বর্তমানে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ও চাকরিজীবী মানুষের
সংখ্যাও অনেক। শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে
বাইরের দেশে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছে। নতুন নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে তাক
লাগিয়ে দিচ্ছে পুরো বিশ্বকে। নতুন নতুন পরিকল্পনা সঙ্গে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন ও মানসম্মত
শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর যে দেশকে ‘তালাবিহীন ঝুড়ি’
বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল, সেই দেশের অগ্রগতি আজ সবার কাছে
প্রশংসনীয়। অনেকের কাছে রোল মডেল। সবুজের মাঝে রক্তিম আভার যে পতাকা, সেই পতাকার সম্মান ৪৯ বছরে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে নয়;
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য,
নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি,
জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিসহ সব ক্ষেত্রে এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ
সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই বাংলাদেশ হবে একটি সমৃদ্ধিশালী দেশ।
যবনিকা:
স্বাধীনতাযুদ্ধে
একসঙ্গে যাঁরা যুদ্ধ করলেন, তাঁদের মধ্যে ঘোরতর বিভক্তি। চরমতম রাজনৈতিক
অস্থিরতা, রক্তারক্তি, গুম ও
খুন। কলকারখানায় লুটপাট ও আগুন। মুনাফাখোর, মজুতদার ও
চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য এবং ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অবিশ্বাস্য
অগ্নিমূল্য। অবশেষে সপরিবারে জাতির পিতার নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। হতভম্ব জাতি।
স্বাধীনতার প্রথম ২-৩টি বছর একটি দুর্বিষহ দুঃসময়। যার সঠিক ও বাস্তব মূল্যায়ন
কখনো নির্মোহভাবে হয়নি। আজ বাংলাদেশ ও স্বাধীন জাতীয় রাষ্ট্র হিসেবে ৫০ বছর
পূর্তির দ্বারপ্রান্তে। তাই পেছন ফিরে তাকালে আমাদের স্বস্তির অনেক কারণ পাওয়া
যায়। অন্তত এ ৫০ বছরে আমাদের অর্জন খুব একটা কম নয়। হয়তো অর্জন আরও বেশি হতে পারত।
তবে যা হয়েছে তা খুব সামান্যও নয়, এককথায় অসামান্য। এখন
বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক দেশ ও রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।
তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আমাদের আরও অনেক বিষয়ে আরও গভীর মনোযোগ দিতে হবে।