প্রারম্ভিকা:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের প্রথমেই তাঁর একটি উদ্ধৃতি রয়েছে যাতে তিনি তাঁর আত্মপরিচয় দিয়েছেন প্রথমে মানুষ এবং তারপর বাঙালি হিসেবে। তিনি লিখেছেন, ‘একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানব জাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙ্গালী হিসাবে যা কিছু বাঙ্গালীদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস মানুষের জন্য ভালোবাসা ছিল বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ডের প্রেরণা এবং মানুষের কল্যাণই ছিল তাঁর কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য। এই মানবিক মূল্যবোধই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে, যা প্রতিফলিত হয় তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শে, যেমন গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও সমাজতন্ত্র। তিনি প্রায়ই বলতেন, তাঁর সারা জীবনের স্বপ্ন হচ্ছে ‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো’। ‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি’ তাঁর এই অভিব্যক্তি থেকেই আমরা বুঝতে পারি সমাজ উন্নয়ন সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল কত ব্যাপক এবং বহুমাত্রিক।
মানবতার বন্ধু বঙ্গবন্ধু
‘প্রতিশোধের খাতিরে নয়, মানবতার খাতিরে জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে। মানবতার বির”দ্ধে অপরাধ ভোলা যায় না।’ নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিনিধির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, শিগগিরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। তিনি আরও বলেন গণহত্যার নীতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছে যারা, পাকিস্তানের সেসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই হবে। বঙ্গবন্ধু বলেন, পাকিস্তান সরকার উপমহাদেশের বাস্তবতাকে মেনে নিতে অস্বীকার করছে। বাংলাদেশের বাস্তবতাকে দেখতে না চাওয়া পাকিস্তানের একটি প্রধান সমস্যা। পাকিস্তান আমাদের স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু অন্য এক শ’টা দেশ দিয়েছে। তাদের (পাকিস্তানের) স্বীকৃতির পরোয়া করি না। তারা যদি বাস্তবতা মেনে না নেয়, তারা যদি এখনও বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশ মনে করে, কর”ক। তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। বঙ্গবন্ধু আরও বলেন, আমি শুধু চাই এই উপমহাদেশ একটি শান্তির এলাকা হোক। সেটাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি।
গরীব দুঃখীর বন্ধু বঙ্গবন্ধু
দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর আকাঙ্ক্ষা খুব ছোটবেলা থেকেই আমরা বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ করি। স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি একই সঙ্গে ছাত্র রাজনীতি এবং সমাজসেবার কাজে অংশগ্রহণ করতে শুর” করেন। তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দরিদ্র, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, তিনি পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন এই ভেবে যে এই নতুন রাষ্ট্রে দরিদ্র মুসলমান ও কৃষক জমিদার ও মহাজন শ্রেণির নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবেন। আমরা দেখতে পাই, ১৯৪৩-৪৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি লঙ্গরখানায় কাজ করেছেন। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের লোককেই উদ্ধার করেছেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বঙ্গবন্ধু বাঙালির বিভিন্ন অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, বারবার কারাবরণ করেন। তবে সে সময় বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি রক্ষার পাশাপাশি তাঁর বৃহত্তর সংগ্রাম ছিল বাঙালি জাতিকে বিভিন্ন শোষণের হাত থেকে মুক্ত করা এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। বঙ্গবন্ধুর জাতীয়তাবাদের ধ্যানধারণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষম সমাজব্যবস্থার চিন্তা। তিনি বলতেন, তিনি কমিউনিস্ট নন, কিন্তু তিনি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী। তিনি চান নির্যাতিত মানুষের শোষণমুক্তি এবং ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্যের দূরীকরণ।
অসাম্প্রদায়িক বঙ্গবন্ধু
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি। তিনি সারা জীবন ধর্মের অপব্যাখ্যা, ধর্মের নামে সহিংসতা, ধর্ম নিয়ে রাজনীতির বিরোধিতা করেছেন। অসাম্প্রদায়িকতা বলতে যে তিনি সব সম্প্রদায়ের সহ-অবস্থানের কথা বলেছেন শুধু তা-ই নয়, সংখ্যাগুর” সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার যে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে, সেই কথাও স্মরণ করিয়ে দেন এবং সে উদ্দেশ্যে তিনি সারা জীবন কাজ করেন। এমনকি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণেও তিনি জনগণকে সতর্ক করেন যাতে কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা না ঘটে। তিনি বলেন, ‘দেখবেন, আমাদের যেন বদনাম না হয়।’ বঙ্গবন্ধু একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। তিনি লাখো মানুষকে সংঘবদ্ধ করতেন আন্দোলনে, কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল অহিংস এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, যাতে গণতান্ত্রিক পন্থার মধ্য দিয়ে জনমত সৃষ্টি করে অধিকার আদায় করা যায় এবং অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা যায়। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১—এই ২৪ বৎসরে তাঁর নেতৃত্বে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ক্রমাগত বেগবান হয়েছে, কিন্তু তিনি সব সময়ই শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছিলেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত সুন্দরভাবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আন্দোলনকে একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও গণমানুষের মুক্তির আন্দোলন হিসেবে সমগ্র পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছিলেন। সারা বিশ্বে তাঁকে তুলনা করা হতো মহাত্মা গান্ধী কিংবা মার্টিন লুথার কিংয়ের সঙ্গে, যাঁরা অহিংস আন্দোলন করেছিলেন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। শান্তি, মুক্তি এবং মানবতার অগ্রদূত হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়তে অত্যন্ত সহায়ক হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুর মানবতা, মুক্তি ও শান্তি
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক চিন্তাধারার প্রভাবেই গঠিত হয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বশান্তি ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। ‘সবার সঙ্গে মৈত্রী এবং কারও সঙ্গেই বৈরিতা নয়’—এই ছিল তাঁর পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি। তিনি বলতেন, বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সুইজারল্যান্ড হিসেবে তিনি গড়ে তুলতে চান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আদর্শ ছিল জোটনিরপেক্ষতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা। সমগ্র পৃথিবীর, বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রামের প্রতি বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন জানিয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ আরবদের সমর্থনে মেডিকেল ইউনিট এবং চা পাঠিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত এই মানবতার পথ ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও ২০১৭ সালে সাত লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় দিয়ে নিজেকে সারা পৃথিবীতে মানবতার অগ্রদূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন। জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রাপ্তির পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা করেন। বক্তৃতায় তিনি অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর গুর”ত্ব আরোপ করেন। জাতিসংঘ যে মানবিক অগ্রগতির লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, তারও তিনি প্রশংসা করেন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পাশাপাশি তিনি স্বনির্ভরতার ওপরও জোর দেন। বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে বক্তৃতা শেষ করেন ‘মানুষের অজেয় শক্তির প্রতি বিশ্বাস এবং মানুষের অসম্ভবকে জয় করার ক্ষমতার’ ওপর প্রত্যয় ব্যক্ত করে। তিনি বলেন, ‘আমরা দুঃখ ভোগ করিতে পারি, কিন্তু মরিব না। টিকিয়া থাকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করিতে জনগণের দৃঢ়তাই চরম শক্তি...জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমেই আমরা আগাইয়া যাইব।’
নিপীড়িত মানুষের বঙ্গবন্ধু:
নিপীড়িত, নিষ্পেষিত, শোষিত ও অধিকারবঞ্চিত বাঙালি জাতির জন্য আজীবন লড়াই-সংগ্রাম করে হয়ে উঠেছিলেন তাদের অবিসংবাদিত ও আত্মত্যাগী নেতা; বাঙালির হাজার বছরের গৌরবময় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ পুর”ষ; স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি; বাঙালি জাতির মুক্তির কাণ্ডারি, সুখ ও সমৃদ্ধিময় পথের দিশারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুর অবদান ও আত্মত্যাগ যেমন এ দেশের জনসাধারণের কাছে তাকে বঙ্গবন্ধুতে পরিণত করেছে, তদ্রূপ তার অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী রাজনৈতিক দর্শন তাকে বিশ্ব দরবারে স্থান করে দিয়েছে একজন ‘বিশ্ব মানবতার প্রতীক’ রূপে।মুক্তিকামী-স্বাধীনতাকামী-নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের শোষণ-বঞ্চনার বির”দ্ধে এক প্রতিবাদী চরিত্রের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন বিশ্ব মহলে ছিল প্রশংসিত, তাই তো যুক্তরাষ্ট্রের নিউজ উইক পত্রিকার শিরোনামে বঙ্গবন্ধুকে অভিহিত করা হয় ‘রাজনীতির কবি’। বাঙালি জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক ও মানবতা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মুগ্ধ ব্রিটেনের মানবতাবাদী আন্দোলনের নেতা লর্ড ফেনার ব্রোকওয়ে বঙ্গবন্ধুকে জর্জ ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধী, দ্য ভ্যালেরার চেয়েও বড় করে দেখেছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, শেখ মুজিবকে দেখেছি।’
অসাম্প্রদায়িক বঙ্গবন্ধু:
বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুণ ছিল অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনা এবং মানুষকে আপন করে নেয়ার অসাধারণ ক্ষমতা। তার অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী মানস গঠনে পিতার অবদান ছিল অনেক বেশি। বঙ্গবন্ধুর পিতা চেয়েছিলেন তার সুযোগ্য সন্তান যেন ন্যায় ও সত্যের পথে থেকে সব বাঙালির মুক্তির কাণ্ডারি হয়ে ওঠে। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে বঙ্গবন্ধু পিতার কথা লিখেছেন, ‘বাবা রাজনীতি কর আপত্তি করব না, পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করছ এ তো সুখের কথা, তবে লেখাপড়া করতে ভুলিও না। লেখাপড়া না শিখলে মানুষ হতে পারবে না। আর একটা কথা মনে রেখ, ‘Sincerity of purpose and honesty of purpose থাকলে জীবনে পরাজিত হবা না।’ বঙ্গবন্ধু সে কথা কোনোদিন ভোলেননি (শেখ মুজিবুর রহমান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা-২১)। পিতা প্রদত্ত মানুষ হওয়ার দৃঢ় নির্দেশকে বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের আদর্শ মেনে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ সবার প্রিয় মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।
যবনিকা:
পিতার কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞানকে রাজনৈতিক জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ এবং তার দেখানো ন্যায় ও সত্যের পথে লড়াই করে ‘শেখ মুজিব’ হতে পেরেছিলেন দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের ‘বঙ্গবন্ধু’। এছাড়াও তৎকালীন মুসলিম লীগের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে দুটি ধারা গড়ে উঠেছিল- প্রগতিবাদী আর প্রতিক্রিয়াশীল। প্রগতিবাদী বা প্রগতিশীল দলে ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। বঙ্গবন্ধু তার ছাত্রজীবনের রাজনীতিতে সব সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রগতিবাদী রাজনৈতিক মতাদর্শের ছায়ায় থাকতেন এবং তাকে রাজনৈতিক গুর” হিসেবে মান্য করতেন। সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ছাত্র রাজনীতিতে তার মানস্পটে অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার বীজ অঙ্কুরিত হয়। ১৯৪৮ সালের দিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কায়েম রাখার জন্য বঙ্গবন্ধু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় সভা করে বেড়াতেন। এ সময় পরিবেশ এমন উত্তাল ছিল যে, যে কোনো সময় হামলা হতে পারত। সোহরাওয়ার্দী শেখ মুজিবকে বললেন- ‘তোমার উপরও অত্যাচার আসছে। এরা পাগল হয়ে গেছে। শাসন যদি এইভাবে চলে বলা যায় না কি হবে! আমি বললাম, স্যার, চিন্তা করবেন না, অত্যাচার ও অবিচারের বির”দ্ধে র”খে দাঁড়াবার শক্তি খোদা আমাকে দিয়েছেন। আর সে শিক্ষা আপনার কাছ থেকেই পেয়েছি’ (পৃষ্ঠা-১০৯)।
