আমের আচার তৈরি করার পদ্ধতি
ছোটো বড় সবাই ভালোবাসে এই আমের আচার রেসিপি। তো আপনার পরিবারের সবাইকে মজাদার আমের আচার বানিয়ে চককিয়ে দেয়ার জন্য থাকছে সকল ধরনের সমস্যার সমাধান। এবং সেই সাথে অনেক গুলো রেসিপি।
আমের আচার বানানোর জন্য প্রথমেই আমার লাগছে আম। আমি আচার বানানেোর জন্য এক কেজির মতো আম নিয়েছি। এবং আামি আম গুলোকে চোকলা থেকে ছাড়িয়ে ফালি করে কেটে নিয়েছি। মনে রাখবেন আম গুলোকে চোকলা থেকে আলাদা করার সাথে সাথেই পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
নয়তো আম গুলো কালো হয়ে যাবে। আমে প্রচুর কস থাকার কারণে। এরপর আম গুলো সাথে সাথে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। মনে রাখবেন আমের গায়ে কোনো ধরনের পানি থাকা যাবে না। এখন এই আচার টি প্রস্তুত করতে লাগবে ধনিয়া এক চামচ, শুকনা মরিচ পাচ বা ছয় টার মতো, জিড়া এক চামচ, গুয়ামুড়ি এক চামচ, এবং পাঁচ পোড়ন এক চামচের মতো।
কাঁচা আমের টক ঝাল মিষ্টি আচার
এ সব গুলো উপকরণকে আমি ভেজে গুড়ো করে নিবো। তবে বেশি ভাজতে যাবেন না কারণ বেশি ভাজার ফলে এগুলো পুড়ে যেতে পারে। এর ফলে এর গুনাগুন নষ্ট হয়ে যাবে। সো এটা মাথায় রাখবেন কেনো না আচার তৈরি করার ক্ষেত্রে এই মশলা টা অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
আচার টা তৈরি করার জন্য এখন চুলায় একটি প্যান বসিয়ে দিলাম।প্যানে দিয়ে দিলাম তিন কাপ সরিষার তেল। এর পরে এতে দিতে হবে এক চামচ রসুন বাটা এবং এক চামচের মতো আদা বাটা। এরপর ভালো ভাবে নেড়ে চেড়ে ভেজে নিবো।এবারে দিতে হবে সরিষা বাটা এক চামচের মতো।
এর পরে এক চামচের মতো পাচ পোড়ন দিয়ে দিদলাম। আবারো ৩০ সেকেন্ডের মতো ভেজে নিবো। এবারে আমি এর মধ্যে দিয়ে দিবো আম গুলো। আমের গায়ে জেনো কোনো প্রকারের পানি না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পানি থাকলে কিন্তু আম গুলো আপনার মন মতো আচারে পরিনতো না হয়।
এইবারে আমি তিন কাপের মতো গুড় দিয়ে দিবো। এবং আবারো সব গুলো উপকরণ কে ভালো ভাবে নেড়ে চেড়ে মিশিয়ে নিবো। দেখবেন কিছুক্ষণ পরে গুড় গুলো গলে যাবে। এখানে কিন্তু কোনো ধরণের লেবুর রস ব্যবহার করা যাবে না।
যখন দেখবেন আম গুলো সেদ্ধ হয়ে গেছে। তখন আমি এম মধ্যে আগে থেকে ভেজে টেলে নেয়া মষলা গুলো দিয়ে দিবো। এখন আাপনাকে ভালো ভাবে জ্বাল করে নিতে হবে। যখন দেখবেন তেল ছাড়া বারতি পানি টা টেনে গেছে তখন বুঝবেন আচার টা হয়ে গিয়েছে।
তো আমার বানানো আচার টা কিন্তু হয়ে গেছে এবং এর থেকে খুৃব সুন্দর একটা ঘ্রান আসছে। ওয়াও কি অসাধারন হয়েছে খেতে। সুতরাং আপনি অবশ্যই এভাবে বাড়িতে আচার বানিয়ে টেস্ট করে দেখবেন। আশা করি আপনার ভালো লাগবে।
কাঁচা আমের রেসিপি
কাঁচা আমের আচার তৈরি করার ক্ষেত্রেসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমের মধ্যে রয়ে যাওয়া পানি। আমের আচার রেসিপি তে পানিটার কারণে আম সম্পূর্ণভাবে গলে যায়। এর ফলে আপনার মন মত আচার হয় না। সুতরাং এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আপনাকে আম কেটে 5 মিনিট পর ভালোভাবে আমগুলোকে ধুয়ে ছেকে নিতে হবে।
তাহলে আশা করি আচার তৈরি করার সময় আপনার এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।এরপর একটি বাড়িতে দুই কাপের মতো সরিষার তেল দিয়ে দিচ্ছি। আর আগে থেকে কিছু পরিমাণ মসলা ভেজে টেরে নিতে হবে। যে মসলাগুলো আমি সবার পরে আমের আচারের মধ্যে ব্যবহার করব।
সেজন্য আগে থেকে এক চামচের মত ধনিয়া, এক চামচের মত গুয়া মুড়ি, একটা মুচের মত জিরা, একটা এবং ৫-৬ টা শুকনা মরিচ কিনে নিতে হবে। এখন সরিষার তেলের মধ্যে আমি দিয়ে দিচ্ছি এক টেবিল চামচের মত রসুন বাটা। রসুনটা একদম ভালোভাবে বাড়বেন না হালকা একটু ক্ষেতলানো থাকবে।
কাঁচা আমের মিষ্টি আচার
এরপর দিয়ে দিচ্ছি এক চামচের মত সরিষা বাটা। এরপর দিয়ে দিচ্ছি এক চামচের মতো আদা বাটা। এখন এই সবগুলো উপকরণকে ভালোভাবে ভেজে নিতে হবে। ভাজা হয়ে গেলে আমি পানি ঝড়িয়েরাখা আম গুলো এর মধ্যে দিয়ে দিব।
এবারে দিয়ে দিতে হবে দুই বাটির মতো মিঠাই। মিঠাইটা দেওয়ার পরে কিছুটা পানি ছেড়ে দিবে। পানিটা শুকানোর আগ পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। এবং ভালোমতো জাল দিয়ে যেতে হবে। যখন পানিটা টেনে গিয়ে শুধু তেলটা ভেসে উঠবে। তখন এর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে আগে থেকে যে মসলাগুলো আমি তেলে বেটে নিয়েছিলাম সেগুলো।
দেওয়ার পরে দুই মিনিটের মতো নেড়েচেড়ে উঠিয়ে নিন। প্রস্তুত হয়ে গেল আপনার বানানো অতি স্বাদের কাচা আমের আচার।
আমের আচার রেসিপি বাংলা
আচার হলো মজাদার এবং এটি হলো একটি মোখরোচক খাদ্য। যা আমার অনেক পছন্দের। আমের আচার রেসিপি সবাই ভালোবাসে। এটি খেতেও অসাধারণ লাগে। আবার আমরা আমের দিন ছাড়া ও এর স্বাদ উপভোগ করতে পারি এই আচার রেসিপি জানার মাধ্যমে।
বিভিন্ন ভাবে আম আচারের দ্বারা সংরক্ষন করা যায়। কেউ রোদে শুকিয়ে তারপর আচার বানায় আবার কেউ আছে রোদে দেওয়াাটাকে ঝামেলা মনে করে। তাই আপনি হয়াতো রোদে না দিয়েই আচার বানাতে চান। তো একটা পদ্ধতি জানা থাকলেই আুমি আশা করি সব ধরণের আচার বানানো যাবে।
তবে অনেক আচার আছে যে গুলোতে তেল ও লাগে না। শুধুমাত্র মসলা এবং চিনির মাধ্যমে এই ধরনের আচার প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হল মোরব্বা এবং জেলিয়াটার। যেখানে তেলের কোন প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র চিনি তে পাক দিয়েই ধরনের আচার প্রস্তুত করা হয়।
কাঁচা আমের ঝাল আচার
উপরে আমি আচার সংক্রান্ত সকল তথ্য দিয়েছি সেখান থেকেই আপনি আপনার মন মতো যে কোনো ধরনের আচার বানাতে পারবেন। শুধু মাত্র আপনার উপর নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের আচার তৈরি করতে চান।
আপনি যদি টক আচার বানাতে চান তবে সেখানে কোনো প্রকার মিষ্টি ব্যবহার না করে বাকি নিয়ম গুলো ফলো করলেই বানাতে পারবেন আপনার পছন্দের টক আচার টি। আবার আপনি মিষ্টি আচার বানাতে চােইলে সেখানে চিনি বা মিঠািই দিবেন। অন্যান্য নিয়ম গুলো একই ভাবে মেনে চলবেন।
আবার আপনি যদি আচারে কোন প্রকারের তেল পছন্দ না করেন তবে এটা বাদ দিয়ে ও আচার প্রস্তুত করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে চিনি পরিমাণ টা একটু বেশি প্রয়োজন হয়। এভাবে নিয়ম গুলো ফলো করলেই চলবে। তবেই আপনি যে কোনো প্রকারের আচার বানাতে পারবেন আশা করি।
কাঁচা আমের টক আচার রেসিপি
এই রেসিপি টা প্রস্তুত করার জন্য উপরের কাচা আমের আচার রেসিপি টা ফলো করুন। শুধু মাত্র আমি উপরের কাঁচা আমের আচারে বেশ কিছুটা মিষ্টি ব্যবহার করেছি কিন্তু আপনি কোনো প্রকারের মিষ্টি ব্যবহার করবেন না।
অনেকেই আছে আচারের মধ্যে মিষ্টি পছন্দ করে না। তারা আম দিয়ে টক আচার বেশ ভালোবাসে। তারা উপরে কাঁচা আমের রেসিপি টা দেখতে পারেন। সবকিছু সেভাবেই প্রস্তুত করবেন শুধুমাত্র নূরের পরিবর্তে লবণ ব্যবহার করবেন। তবে আমি যে পরিমাণ লবণ ব্যবহার করবেন না।
লবণ দুই চামচ এর মত ব্যবহার করলেই হবে অথবা আপনি আপনার সাদ অনুযায়ী লবণ টা দিয়ে দিবেন। কিন্তু যদি বেশি লবণ দেন তাহলে কটা হয়ে যাবে এর ফলে খেতে ভালো লাগবে না।
কাঁচা আমের তেলের আচার
তেলের আচার খুবই মজাদার একটি আচার। বিভিন্ন ভাবে প্রস্তুত করা যায়, কেউ এই তেলের আচারে মিষ্টি ব্যবহার করে। আবার এটি মিষ্টি ছাড়াও প্রস্তুত করা যায় তবে সেটা খিচুড়ি,ভাকা ইত্যাদি খাবারের সাথে খেতে খুবই ভালো লাগে।
কিন্তু আমরা অন্যান্য আচার যেভাবে খাই। এটি সেভাবে খাওয়ার জন্য নয় যদি আপনি সেখানে মিষ্টি ব্যবহার না করেন। তো আজকে স্যারের আচারে আমি কোন প্রকারের মিষ্টি ব্যবহার করছি না। অর্থাৎ চিনি বা গুর কোনটাই ব্যবহার করব না। কেননা এই আচারটা আমি খিচুরি কিংবা বউয়ার সাথে পরিবেশন করব।
এই আচার টা ভাত দিয়ে খেতে ও অনেক ভালো লাগে । এই আটাটা ভুল করার জন্য আমি এক কেজি আম কেটে নিয়েছি। এবং সামান্য রোদ্রের শুকিয়ে নিয়েছি। এখন আটা প্রস্তুত করার জন্য আমি পাঁচফোড়ন, ধনিয়া, আদা বাটা, রসুন বাটা, জিরা এবং কয়েকটা শুকনো মরিচ নিয়ে নিয়েছি।
এখন আচার প্রস্তুত করার পালা। এ পর্যায়ে আমি চুলায় একটি প্যান্ট বসিয়ে দিয়েছি এবং প্যান এর মধ্যে দিয়ে দিচ্ছি আধা কেজির মত সরিষার তেল। আদা বাটা রসুন, বাটা এক চামচের মত। এই মসলা গোলক পাঁচ মিনিটের মত ভেজে নিব। এ পর্যায়ে দিয়ে দিতে হবে আমগুলো।
আমগুলো যখন সিদ্ধ হয়ে আসবে তখন আমি অন্যান্য মসলা গুলো দিয়ে দিব। মনে রাখবেন তেলের আচারের মধ্যে আম গুলো সব তেলের মধ্যে ডুবে থাকবে। এরপর বিশ মিনিটের মতো জ্বাল করে নিতে হবে। দেন আপনার আচার প্রস্তুত।
তবে মনে রাখবেন আচার বানানোর কয়েক দিন পর পর আচার গুলোকে রোদে দিতে হবে। এবং দুই তিন মাস পর পর আবার নতুন করে জ্বাল করে নিতে হবে। এতে কেরে আপনি অনেক দিন এই আচার সংরক্ষন করে খেতে পারবেন।
শেষ কথা,
উল্লেখিত পদ্ধতিতে আমি নিজেও আমের চাটনি তৈরি করেছি। বলতে পারেন মাশাল্লাহ অনেক সুস্বাদু হয়েছে। আপনি যদি আমার এই দেখানোর টিউটোরিয়ালটি অর্থাৎ আমের আচার রেসিপি বাংলা উপাদান সঠিকভাবে ফলো করে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই সহজে কিভাবে সুস্বাদু টক ঝাল মিষ্টি আমের আচার রেসিপি তৈরি করা যায়। সে বিষয়ে বিশদভাবে জানতে পেরেছেন। উল্লেখিত টপিক গুলোতে আমি কয়েক রকমের আচার তৈরি করার পদ্ধতি বলেছি। সেখান থেকে কোন গাছের আচারটি আপনার খুব পছন্দ খেতে সুস্বাদু লাগে, তা কমেন্ট করে জানান। ধন্যবাদ।
